বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬

বড় বেশি সাম্প্রদায়িক

 প্রহেলা জুলাই, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে একটু দূরে ছিলাম। গুলশানের রেষ্টুরেন্টের ঘটনা পুরোপুরি ফলো করতে পারিনি। তবে সকালে বুঝতে বাকি রইলো না জঙ্গি হামলাটি কত বেশি ভয়ানক, কত বেশি সাম্প্রদায়িক।
আমি আমাদের কাথলিক চার্চে কোনদিন শুনিনি ফাদার বা বিশপগণ গীর্জায় পুলপিঠে দাঁড়িয়ে অন্য কোন ধর্মের বিরুদ্ধে বলেছেন, বরং দেখেছি তারা অন্য ধর্মের ভাল দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করার শিক্ষা দিয়ে থাকেন তাঁরা খ্রিস্টভক্তদের।
কিন্তু গতকালের ঘটনায় আমরা কী দেখলাম?


জঙ্গিরা রেস্তোরায় প্রবেশ করলো। আল্লাহ আকবর বললো, তারা সেখানে উপস্থিত দেশি বিদেশী লোকদের সুরা জিজ্ঞেস করলো। যারা পারেননি তাদের বলি হতে হলো। এই ঘটনা আমাদের দারুণভাবে ব্যথিত করেছে।
এই শিক্ষা নিশ্চয় কোন না কোন গুরু তাদের দিয়েছে। ধিক জানাই সেই সব গুরুকে, যারা শান্তির ধর্ম ইসলামকে কলঙ্কিত করছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ইসলাম শান্তির ধর্ম। যাঁরা ভাল মুসলমান- তাঁরা সন্ত্রাসী করে না। অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা করে।
দেশ নেত্রী মানেনীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জনাই, তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেছেন, সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দিতে। কোন সন্তান যেন জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত না হয়। তিনি বিদেশী নাগরিকদের হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে তাঁকে দুঃখিত, লজ্জিত মনে হয়েছে।
তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সরকারের উদ্ধার তৎপরতায় ক্রুটি রয়েছে। তারা কেন ঘটনা ঘটার ১২ ঘন্টা পর চূড়ান্ত অভিযান চালালো? অভিনন্দন জানাই ১৩জনকে জীবীত উদ্ধার করতে পারায়। কিন্তু তাঁরা যদি সিদ্ধান্ত আরো আগে নিতো, অভিযান আরো আগে চালাতো, তাহলে ৯ ইটালিয়ান, ৭ জাপানি ও ১ ভারতীয় সহ অন্যান্যদের জীবন দিতে হতো না।
সরকার বার বার বলছে, দেশে আইএস নাই। অথচ আইএস প্রকাশ করছে বাংলাদেশে তাদের কর্মীদের ছবি! সরকারের সময় হয়েছে সাদাকে সাদা, আর কালোকে কালো বলার। সত্যটাকে স্বীকার করার এবং জঙ্গিবাদ দূর করার।
গত কয়েক বছর বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় আটক এবং সাজা প্রাপ্তদের দেখা গেছে তারা বেশির ভাগই সরাসরি জড়িত জামাত-শিবির এর সাথে
। এই সংগঠনটি পুরোপুরি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদেরকে নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবী।
দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, এদেশে আমরা সাধারণ খ্রিস্টভক্ত, ফাদার-বিশপ-ব্রাদার-সিস্টার সবাই চরম নিরাপাত্তাহীনতায় ভুগছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকজন ফাদার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ নিয়ে ঘুরাফেরা করেন, সন্ধ্যার পর বাইরে বের হন না। আমরা নিজেরাও আতঙ্কে থাকি কখন কি হয়। কিন্তু এমন দেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? এমন সাম্প্রদায়িক হামলার ভয় পাওয়ার জন্য কী দেশে মুক্তি যুদ্ধ হয়েছিল?
দেশে জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করায় কার কি লাভ জানি না। তবে এটুকু বুঝি, সংখ্যালঘুদের ক্রমাগত নির্যাতন করা হলে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ কমে যাবে, বিদেশীরা এদেশে আসা বন্ধ করে দিবে। অর্থনৈতিকভাবে দেশ পিছিয়ে যাবে যোজন যোজন দূর।
তাই আমার বিনিত অনুরোধ, আসুন সন্তানদের, শিক্ষার্থীদের অসাম্প্রদায়িক হতে শিখাই। অন্য ধর্ম বিশ্বাসীদের সম্মান দিতে শিখি
 (লেখাটি বিডি খ্রিস্টান নিউজে পূর্ব প্রকাশিত)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন